‎নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চলন্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতককে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী মায়ের (১৮) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ওই কিশোরী ও সিএনজি চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। একই সঙ্গে নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‎​শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

‎​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। নবজাতকের শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মায়ের সঙ্গে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা গোপনে আদালতে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সালাউদ্দিনকে জানালে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিয়ে অস্বীকার করেন।

‎​ঘটনার দিন দুপুরে হঠাৎ প্রসববেদনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই কিশোরী। এরপর সিএনজি চালক সামসুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সিএনজির ভেতরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। পরে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে নবজাতককে হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা সিএনজি চালকসহ ওই কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

‎​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. সালাউদ্দিন ওরফে আরমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

‎​কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। নবজাতক ও তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।