ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার দিনভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেন সনাতন ধর্মালম্বীরা। এছাড়া রাতে পুজা অর্চনা হয়। শনিবার প্রসাদের আয়োজন করা হয়েছে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকালে শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। প্রায় দেড়ঘন্টা ব্যাপি এ শোভাযাত্রাটি পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে বিভিন্ন মন্দিরে যায়।
উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ, শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কমিটির সাধারন সম্পাদক অলক কুমার চক্রবর্তী, লোকনাথ সেবাশ্রম শান্তিবন মহাশ্মশাণ কমিটির সভাপতি হিরালাল সাহা, পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জুটন বনিক, উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বাবু, দাসপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি দ্বিজেন্দ্র দাস, সাহাপাড়া মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবু সাহা, সাধারন সম্পাদক পরিমল সাহা, নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বনিক, ব্যবসায়ি ভজন দেব, অসীম কুমার পাল, স্বপন বনিক, চন্দন দাস, শিবু দেব, সুমন চক্রবর্তী, পরিমল ঘোষ, দুলাল ঘোষ, প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। র্যালির শুরুতে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম।
ভক্তরা জানান, কয়েক হাজার বছর পূর্বে দাপর যুগে আজকের এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানব অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভগবানের আবির্ভাবের উদ্দেশ্য ছিল অত্যাচারী ও দুষ্টকে দমন করার জন্য এবং শিষ্টের পালন করার জন্য এ দিনটি অত্যন্ত পবিত্র দিন।
ভক্তরা আরো জানান, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিণী নক্ষত্রে বাসুদেব-দেবকীর কোলে কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। অষ্টমী তিথিতে দেবকীর অষ্টম গর্ভে আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে এই জন্মতিথির নাম জন্মাষ্টমী তিথি বলা হয়। শ্রীকৃষ্ণ কংসের কারাগারে যখন আবির্ভূত হয়েছিলেন ,তখন দুরাচারী কংসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সবাই।
পৃথিবী থেকে দুরাচারী দুষ্টদের দমন আর সজ্জনদের রক্ষার জন্যই তাদের মহাবতার এই দিনে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। ভগবানের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা হয়। এটা হচ্ছে আজকের দিনের তাৎপর্য।
