যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পাচারের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা অনুসন্ধানের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিট আবেদন ও আদালতের নথি অনুযায়ী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে থাকা সম্পদের অনুসন্ধানের সময় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) শওকত আলী চৌধুরীর কয়েকটি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পায়। তদন্তে যুক্তরাজ্য থেকে সুইজারল্যান্ডের ইউনাইটেড ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ম্যাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডির বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের তথ্য উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক সূত্রে পাওয়া এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলকে জানানো হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ। তবে দীর্ঘ সময়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বিএফআইইউ প্রধান, এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। তাঁরা আদালতে দাবি করেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে আইনগত দায়িত্ব রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
হাইকোর্টের আদেশের ফলে এখন ৩০ দিনের মধ্যে শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা অনুসন্ধান আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে দুদককে। পাশাপাশি বিএফআইইউর ভূমিকা নিয়েও আদালতের জারি করা রুলের জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।