ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাইসেন্সবিহীন ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগে “মুন্নী আইসক্রীম ফ্যাক্টরি” ও “বৈশাখী আইসক্রিম ফ্যাক্টরি” নামে দুইটি কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত ও সংরক্ষিত আইসক্রিম জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানা দুটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলী পৌর সভার ছয়বাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত দুটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালত দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠান দুটিতে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম উৎপাদন করছে।
অভিযানে আরো দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। খাদ্য মানসম্মত (ফুড গ্রেড) নয় এমন রং ও ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া উৎপাদিত আইসক্রিম খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করা এবং মোড়কে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না করার মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায়, যা ভোক্তার স্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী “মুন্নী আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ২ লাখ টাকা এবং বৈশাখী আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ২ লাখ টাকা, সর্বমোট ৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান চলাকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় সংরক্ষিত আইসক্রিম জব্দ করে পুনরায় বাজারজাতকরণ রোধে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলী প্রতিষ্ঠান দুটিকে প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমোদন ও লাইসেন্স গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করা পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।