ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে উপজেলার বাহাদুরপুর-দূর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে ঝাড়– নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই কর্মসূচী পালিত হয়। এতে উপজেলার দূর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোঃ আশরাফুজ্জামান, তারেক আহমেদ মিলন, জুবায়ের হায়দার বুলু, হাফেজ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মেঘনা নদীর কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেহেন্দিপুর এলাকায় ইজারা নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুর সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে চর সোনারামপুর গ্রামসহ মেঘনার তীরবর্তী দুর্গাপুর, বাহাদুরপুর, সোহাগপুর ও তাজপুর এলাকার বিস্তৃর্ণ কৃষিজমি এবং বসতভিটা মারাত্মক নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
মানববন্ধনে বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান বলেন, “যে বালুমহাল ইজারা দেয়া হয়েছে, সেটি কিশোরগঞ্জ জেলার মির্জাপুর মৌজায়। কিন্তু ড্রেজারগুলো আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর মৌজার নদীতীর থেকে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বে বালু উত্তোলন করছে। আমাদের উপজেলার সীমানা প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, পিডিবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি আশুগঞ্জ থেকে বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর হয়ে পানিশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃর্ণ এলাকা দুই-এক বছরের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “আমাদের দাবি, তারা যেন ইজারাকৃত এলাকাতেই বালু উত্তোলন করে। আশুগঞ্জ উপজেলার অংশে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।
মানববন্ধনে জুবায়ের হায়দার বুলু বলেন, “মেঘনা নদীর ওপর দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুসহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এই নদীর তীরে অবস্থিত। অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বক্তারা দ্রæত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে আশুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
এ সময় তিনি বলেন, দ্রæত সময়ের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে বালুমহালের অনিয়ম ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, আশুগঞ্জ মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেডকে আটক করা হয়। পরে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজারগুলো পালিয়ে আমাদের সীমানার বাইরে চলে যায়। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বালু খোকোদেও বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান।
