চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হল্ট স্টেশনে চার বছরের এক শিশুকে প্ল্যাটফর্মে রেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা ওই নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দর্শনা হল্ট স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের মুহূর্তে ওই নারী তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় চার বছর বয়সী শিশুটিকে প্ল্যাটফর্মে রেখে হঠাৎ রেললাইনে ঝাঁপ দেন। চলন্ত ট্রেনের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নারীর নাম নিলুফা বেগম (২৯)। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিহিকৃষ্ণপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী। দু’সন্তানের জননী নিলুফার যে বাচ্চাটি সঙ্গে ছিল তার নাম জামিয়া, বয়স ৩ বছর। নিরব (১০ ) পুত্র সন্তানকে বাড়িতে রেখে এসেছিল।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, নিহত নারীর কাছে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
দর্শনা হল্ট স্টেশনের জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই রফিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জেনেছি, মেয়েটি দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিল। মানসিক অস্থিরতায় তিনি ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়েছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের পর আজ শনিবার দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের কারো কোন অভিযোগ ছিলনা।