কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছোট চাঁদপুর গ্রামে তিন শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার পলাতক আসামি মকবুল হোসেনকে (৪০) অবশেষে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ছোট চাঁদপুর গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই লাকসাম থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-১০) দায়ের করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৬ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ছোট চাঁদপুর গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযুক্ত মকবুল হোসেন তিন শিশুকে যৌন নিপীড়ন করেন।

যৌন নিপীড়নের শিকার এক শিশুর পিতা বলেন, “দুনিয়ায় এখনো ভালো মানুষ আছে। ওসি ম্যাডাম গরিবের যন্ত্রণার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার পরও আমাদের মামলা নিয়েছেন, আসামিকে ধরেছেন। অথচ মকবুল ও তার মা বলতো, টাকার কাছে গরিবের ইজ্জতের মূল্য নেই। তারা টাকা দিয়ে সব ঠিকঠাক করে ফেলবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, গরিবও বিচার পায়”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছোট চাঁদপুর গ্রামের এক বাসিন্দা দাবি করেন, মকবুল নারী পাচার মামলায় সৌদি আরবে কারাভোগ করে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও এলাকায় প্রচলিত ছিল। শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলীর আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “আসামিকে ধরতে লাগাতার অভিযান চালানো হয়েছে। অবশেষে মকবুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে”।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মকবুল হোসেন এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। তবে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।