গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মোছা. খালেদা আক্তার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় শ্রীপুর মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার এমসি বাজারে ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা করেন সজীব মিয়া (৩০)। গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শরীফ সরকার, ড্রাইভার মুন্না, আনোয়ার হোসেন, সুজন মিয়াসহ কয়েকজন তার দোকানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সজীব চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে তাকে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে শরীফ সরকারের বাড়ির নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কথিত টর্চার সেলে রাতভর আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। গরম লোহার রড দিয়ে তার দুই পা ও বাম হাতে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে বুকে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

গরম লোহার রড দিয়ে তার দুই পা ও বাম হাতে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে বুকে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সজীবকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, আহতের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শরীফ সরকার। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীকে টর্চার সেলে আটকে নির্যাতন বা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়। তার দাবি, সজীব একটি হত্যা মামলার আসামি এবং এমসি বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।