সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে একই নামে দুটি প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি প্রকল্পের মধ্যে একটি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের টিআর দ্বিতীয় পর্যায়ে পাইকুরাটি ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অনুকূলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি হিসেবে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদের নামে অর্থ ছাড় করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নামমাত্র কিছু কাজ ছাড়া মাটি ভরাটের কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
একই অর্থবছরের টিআর তৃতীয় পর্যায়ে সেলবরষ ইউনিয়নের কলকাকলী বিদ্যাপীঠ উন্নয়ন নামে আরও একটি প্রকল্পে পৃথকভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, সেলবরষ ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীও এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানেন না বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অস্তিত্বহীন ওই প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দের অর্থও একই ব্যক্তি বশির আহম্মদকে পিআইসি সভাপতি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাড় দেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়।
সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী, টিআর প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, “আমার ইউনিয়নে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই।”
সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে দুই প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি বশির আহম্মদ বলেন, “পিআইও আমাকে স্থানীয় এমপির কথা বলে দুটি প্রকল্পের বিল জমা দিতে বলেন। না হলে একটির বরাদ্দ ফেরত চলে যেত। বিষয়টি আমি এমপিকে জানিয়েছি। একটি প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে কাজ করেছি, আর অন্য প্রকল্পের টাকা আমার ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত আছে।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় এমপি অবগত ছিলেন। একজনই প্রকল্প সভাপতি ছিলেন। ইউনিয়নের নাম ভুল হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে সংশোধনের সুযোগ ছিল না। সংশোধন না করলে বরাদ্দ ফেরত চলে যেত এবং প্রতিষ্ঠানটি টাকা পেত না। যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ ফেরত গেছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি এটি কেবল ইউনিয়নের নামের ভুল হয়, তাহলে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করা হলো এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত না গিয়ে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে কেন রাখা হলো? এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।