চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে ঘিরে ট্রাস্টি বোর্ডের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের একটি পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা, আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ তুলে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।
বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান (দাবিকৃত) পুষ্টিবিদ মো. আলিম উদ্দিন লস্কর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অনুমোদনবিহীনভাবে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এরপর বোর্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন নথিপত্র উপস্থাপন করে দাবি করেন, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টকেই বৈধভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকার এফডিআর ভেঙে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুমোদনবিহীন অতিরিক্ত ফি আদায়, প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।
এদিকে একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে ট্রাস্টি বোর্ডসংক্রান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ২৩ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আলিম উদ্দিন লস্করের নেতৃত্বাধীন ট্রাস্টি বোর্ডকে অপসারণ করা হয়েছে এবং বৈধ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২২ জুলাই একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করলে পরদিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী গঠিত কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তাদের অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয় সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি ও অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট মহল।