মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদককে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ কমাতে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় সর্বাত্মক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুর টাউন হলে জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত গডফাদার থেকে শুরু করে চুনোপুঁটি পর্যন্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিআইজি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, ডিলার, গডফাদার, অর্থদাতা ও বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকাসক্তি কমানো গেলে মাদককে ঘিরে সংঘটিত অপরাধও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১টি জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। লক্ষ্মীপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সামাজিক প্রতিরোধে গুরুত্ব
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি আইনজীবীদের মাদকাসক্তদের আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইমাম ও পুরোহিতদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে এবং রাজনৈতিক নেতাদের মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ ও র্যালি
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউসুফ, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুস্তাকুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে টাউন হল থেকে একটি মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়।