ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ রিং জালের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের আড়াই হাজার পিস ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টানবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তারের নেতৃত্বে হাজি এন্টারপ্রাইজের মালিক নূরুল ইসলামের গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব জাল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার করা ২ হাজার ৫০০ পিস রিং জালের আনুমানিক পাইকারি বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নূরুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল। পরে তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পান।
অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের পক্ষে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল।
নিষিদ্ধ জাল কেন উদ্বেগের
‘চায়না দুয়ারি’ বা ক্ষুদ্র ফাঁসের রিং জালের মতো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন আকারের জলজ প্রাণী ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে। ফলে প্রজননক্ষমতা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর মৎস্য আহরণ পদ্ধতির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা আক্তার বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ রিং জাল উৎপাদন, বিক্রি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় বাজারের অন্যান্য জাল ব্যবসায়ীদের নিষিদ্ধ জাল বিক্রি বা মজুত না করার জন্য সতর্ক করা হয়। অভিযানে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।