ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও নবীনগর উপজেলায় ১০ লাখ ২৪ হাজার ৫০৯ জনকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ শুরু হবে। দুই দফায় পরিচালিত এ কর্মসূচির প্রথম রাউন্ড চলবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় রাউন্ড ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের পরিকল্পনা ও সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, কর্মসূচির আওতায় ১ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন। সদর উপজেলায় ৪ লাখ ২১ হাজার ৪৬০ জন এবং নবীনগরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৪৯ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিকাদান কার্যক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থায়ী কেন্দ্র থাকবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ জন্য ১ হাজার ১২৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও টিম সদস্য এবং ৯৩ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।
কেন এই টিকা গুরুত্বপূর্ণ
কলেরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ানো একটি তীব্র পানিবাহিত সংক্রামক রোগ। গুরুতর ক্ষেত্রে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে জীবনহানির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর এবং কলেরা নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধে গণটিকাদানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০২৫ সালে কক্সবাজারে পরিচালিত কর্মসূচিতে ১৪ লাখের বেশি ডোজ দেওয়া হয়েছিল; WHO জানিয়েছে, টিকাদানের পাশাপাশি পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৬ সালের শুরুতে WHO, Gavi ও UNICEF জানিয়েছিল, বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে বাংলাদেশে প্রতিরোধমূলক কলেরা টিকাদান পুনরায় সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশের জন্য ১ কোটি ৩ লাখ ডোজের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। টিকা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তি যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শাখাওয়াত হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
