সাতক্ষীরা সীমান্তে রাত্রিকালীন টহল পরিচালনা করার সময় ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ১২ জুলাই (রবিবার) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ তলুইগাছা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভোররাতে তলুইগাছা বিওপির একটি নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দল সীমান্ত মেইন পিলারের ১৩ নম্বর সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছু মানুষের নড়াচড়া ও কথাবার্তার শব্দ শুনতে পায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবির টহল দল অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে তাৎক্ষণিকভাবে শব্দের উৎসের দিকে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে তারা শূন্য লাইন (জিরো লাইন) থেকে বাংলাদেশের আনুমানিক ৫০ গজ অভ্যন্তরে ‘চারাবাড়ি’ নামক স্থানে দুই জন অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারিকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখে।
এ সময় বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করে। টহল দল উচ্চস্বরে তাদের থামতে, নিজেদের পরিচয় দিতে এবং আত্মসমর্পণ করার জন্য একাধিকবার নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু বিজিবির নির্দেশ অমান্য করে তারা দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। চোরাকারবারিরা দ্রুত পালিয়ে যেতে থাকায় বিজিবি টহল দল তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে ভীতি প্রদর্শন ও তাদের প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে ভারতীয় চোরাকারবারিদের ওপর বিজিবি গুলিবর্ষণ করে।
বিজিবির এই অনমনীয় ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে চোরাকারবারিদের চোরাচালানের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। তারা আতঙ্কিত হয়ে সীমান্ত সংলগ্ন ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ও তার আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি নিশ্চিত করেছে যে, উক্ত গুলিবর্ষণের ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হয়নি।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান (ওএসপি, পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।