খুলনা নগরীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ মামলার আরেক অভিযুক্ত, নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ৮ জুলাই নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়ক থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, নিহত কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা নগরীর ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সিমা দম্পতির একমাত্র সন্তান।

এ ঘটনায় ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন বলে দাবি পুলিশের। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, তদন্তে নিহত কিশোরীর ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় সেসব তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন নয়। তদন্তে পাওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে মামলার অপর আসামি মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে তদন্ত সম্পন্নের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।