ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক রেস্তোরাঁ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহত আব্দুল বারেক আকন্দ (৪৫), স্থানীয়ভাবে মজনু মুন্সি নামে পরিচিত, ময়মনসিংহ নগরের হাওয়ার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার-এর কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি উপজেলার দুর্বারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বয়ড়া বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকন্দ (আকাশ), যিনি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে (বিজিবি) কর্মরত বলে পরিবার জানিয়েছে, দাবি করেন, তাঁর বাবা হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তাঁকে লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করা হতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হামলাকারীদের একজন নিহতের মোবাইল ফোন থেকে তাঁকে এবং পরে তাঁর বোনকে ফোন করে। ফোনালাপের বিষয়ে তিনি যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভাংনামারী ইউনিয়নে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, একই ইউনিয়নের বারুয়ামারি গ্রাম থেকে গত ২৫ জুন আলিফ মাহমুদ (২২) নামে এক পোশাকশ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া গত সপ্তাহে গৌরীপুর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মানিক মিয়া হত্যার ঘটনাও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।