জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকেই দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করেন। সেখানে আমরা সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব। এর মধ্য দিয়ে গণভোটের রায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে।

সরকার বিভিন্নভাবে সংশোধন কমিটির মাধ্যমে বিষয়টিকে প্রলম্বিত করছে। সেখানে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তারা মনে করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধানের সংশোধনীগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবেন। এজন্য তারা বিরোধী দলের কোনো কথা শুনছেন না। আজকে যারা সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং ডেকেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না; বরং সংকটের পথ আরও বেগবান করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন আরও বলেন, সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে গণভোটকে অবৈধ বলতে পারেনি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করেছে, তারা গণভোটের একাংশ মানে, অন্য অংশ মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামোগুলো আছে, সেগুলো তারা অব্যাহত রাখতে চায়। সে কারণেই তারা এই সংবিধানের পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে যে পরিবর্তন দরকার, তারা সেটা না করে একটি সংশোধনী আনতে চায়।

তারা ইতোমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। আমাদের সেখানে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধী দল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলাম। জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে অংশগ্রহণ করবে না। কারণ, সংবিধান সংশোধন কমিটি যে ধারণার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে, সেটিতে জুলাই সনদ ও গণভোটের কোনো বাস্তবতা নেই।

সংবিধানের বিষয়ে কীভাবে সংশোধন করা হবে, সেটি গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে। সেটি অবশ্যই সংবিধান সংশোধন পরিষদের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধন পরিষদের মাধ্যমে না করে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে করা হলে, বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে আছে, সেটি আরও গভীর হবে।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।