জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। তবে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং গোলরক্ষক সুজুকির দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণে গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেসাওরা।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ব্রুনো গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, দানিলো ও মাতেউস কুনহার একাধিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
আক্রমণে পিছিয়ে থাকলেও ২৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতির আক্রমণে উঠে সানো বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। কিন্তু প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা না পাওয়ায় পিছিয়েই বিরতিতে যায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
বিরতির পর কৌশলে পরিবর্তন এনে পাকেতার পরিবর্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় সেলেসাওরা।
৫২তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। তিন মিনিট পর কাসেমিরোর আরেকটি হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন তোমিয়াসু। তবে ৫৬তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি জাপানের। কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাসেমিরো গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
সমতার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এন্দ্রিক, গিমারায়েস ও রায়ানের একাধিক প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেন ব্রুনো গিমারায়েস। তার বাড়ানো থ্রু পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোলরক্ষক সুজুকিকে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশে জালে বল পাঠান।
৯৬তম মিনিটের সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল এবং শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নেয়।
ম্যাচের ফলাফল
ব্রাজিল ২-১ জাপান
গোল: কাসেমিরো (৫৬’), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (৯০+৬’) — সানো (২৯’)
