কাতারের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রাস লাফান শিল্পনগরীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার সরকার। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অন্তত নয়টি দেশের নাগরিক রয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবি সোমবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের পেছনে নাশকতা, হামলা বা কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

কাতারএনার্জির তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কাতার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, কেনিয়া, তানজানিয়া, নাইজেরিয়া ও ঘানার নাগরিক রয়েছেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা জীবনশঙ্কাপূর্ণ নয়।

বিস্ফোরণের সময় কী ঘটেছিল?

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বারজান গ্যাস স্থাপনায় পুনরায় উৎপাদন শুরু করার সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে স্থাপনাটির কিছু কার্যক্রম সীমিত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে উৎপাদন পুনরায় চালুর উদ্যোগের মধ্যেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।

রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব নেই

বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হলেও কাতার সরকার জানিয়েছে, এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা, রাস লাফান বন্দর এবং অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা।

সহায়তায় ভারতীয় দূতাবাস

দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটিতে সংঘটিত এ দুর্ঘটনা কাতারের শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পরিচালন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের।