রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে ‘শুকরিয়া’ আদায় করেছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে। এ জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। তিনি কেন পদত্যাগ করেছেন, সেটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমরা আগেই মনে করেছি, তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের যোগ্য ছিলেন না।”

নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিনি ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

এনসিপির দাবি: গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “যদি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন।”

এনসিপির দাবি: গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে

এদিকে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক। শুধু পদত্যাগ করলেই তার দায় শেষ হয়ে যায় না।”

আখতার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি নিজের জন্য ‘সেফ এক্সিট’ তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে তার ভাষায়, “এ ধরনের সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।”

খেলাফত মজলিসেরও একই দাবি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছিলেন।

তারা বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে দেশের মানুষ স্বস্তি অনুভব করলেও শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে তার দায় শেষ হয়ে যায় না। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।