সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন সফরে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। পরদিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বা সামার দাভোস ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,৭০০ প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। সরকার আশা করছে, এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।