নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিংড়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া এলাকার বাসিন্দা মারিয়া বেগম (৭৫) কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় গত ৬ জুন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ৯ জুন স্থানীয়রা একটি ডোবার কচুরিপানার মধ্যে বস্তাবন্দী মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ছেলে জনাব আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে জনাব আলী তার মাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পাশের একটি টয়লেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। কয়েকদিন পর মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে তিনি তার ছেলে আলামিনের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তাবন্দী করে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয়দের সন্দেহ এবং পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পুলিশের দাবি, হত্যার কারণ, ঘটনার সময়কাল এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।