ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একটি কেমিক্যাল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি রাসায়নিক কারখানাকে লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

Advertisement

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইরানের জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইআরজিসির অভিযোগ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা আঘাত করা হয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, ইসরায়েল বেসামরিক অবকাঠামো ও তেল-শিল্পকে লক্ষ্য করে “বিপজ্জনক পদক্ষেপ” নিয়েছে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়বে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ও তেলশিল্পে হামলা চালিয়ে ইহুদিবাদী শত্রু একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এর বিস্তার পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর পড়তে পারে, এবং এর দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেও বহন করতে হবে।”

এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে হাইফার সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা যাচাইযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।