মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায়। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর পরপরই ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে ইরান অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করে। হামলার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, অধিকাংশ বা সব ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরান, শিল্পনগরী ইস্পাহান, তাবরিজ, কারাজ ও কেরমানশাহসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সামরিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে আরও হামলা হলে প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হবে।
সংঘাতের পেছনের কারণ
এই নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লেবানন। সম্প্রতি বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরান ওই হামলাকে ‘লাল রেখা অতিক্রম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়। এরপরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল ইরানের ভেতরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ট্রাম্প বলেছেন, এই সামরিক উত্তেজনা চললেও তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
