চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দিননপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘কমলা দোয়া’ জলাশয়ে ব্যবহারের সময় বিপুল পরিমাণ সরকারি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সরকারি সার কীভাবে জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) দুপুরে উপজেলার দিননপুর গ্রামের কমলা দোয়া জলাশয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বিঘা আয়তনের কমলা দোয়া জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শষ্টি মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা। শনিবার দুপুরে জলাশয়ে বিপুল পরিমাণ সার ছিটানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এগিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, লিজগ্রহীতা শষ্টি মিয়া ও তাঁর অংশীদার শাহাবুদ্দিন মিয়ার উপস্থিতিতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক প্রায় ১৭০ বস্তা সরকারি সার জলাশয়ে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে আনুমানিক ১৪০ বস্তা সার ইতোমধ্যে পানিতে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ সময় স্থানীয়রা সারগুলোর উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সার কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে একটি বাণিজ্যিক মাছের জলাশয়ে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

জলাশয়ে ব্যবহারের সময় বিপুল পরিমাণ সরকারি সার জব্দ
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি অবশিষ্ট প্রায় ৩২ বস্তা সার জব্দ করে কৃষি বিভাগের হেফাজতে দেন।
ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, “খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩২ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। সারগুলো কৃষি কর্মকর্তার হেফাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সার অবৈধভাবে সংগ্রহ বা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় সরকারি সার সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবহারের উৎস অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
