দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিশ্চিত হাম শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বাকি আটজনের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪১৬ জন। পাশাপাশি সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৯২ জন।
চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। তবে এখনও বিপুল সংখ্যক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানও বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৪ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৭৭ জনে। সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, শিশুদের অপুষ্টি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ টিকাদান অভিযান জোরদার, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।