ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এই গুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ মুইনুদ্দিন।
নিহতরা হলেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোঃ মুরসালিন-(২০) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন-(৪০)।
নিহত মুরসালিন গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের দু’জনের লাশ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে দাবি পারিবারের।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যায়। সময় বিএসএফ তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মুরসালিন নিহত হয়। পরে তার লাশ ভারতে নিয়ে যায়। এ সময় আহত নবীর হোসেনকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুর ১২টায় বিজিবির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীর সহায়তায় আনুমআনিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ভারত থেকে চোরাচালানী মালামাল নিয়ে ফেরার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাঁধা দিলে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যের উপর চড়াও হয় এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে ২টি ছররা গুলি করে। এতে মোঃ মুরসালিন এবং অপর একজন আহত হয়। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিএসএফ নিশ্চিত করেছে।
এ ব্যাপারে ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, আমি যতটুকু জানি রাতে ২০/২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে তাদের বিএসএফ গুলি করলে মোরসালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।
এ ব্যাপারে নিহত নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন বলেন, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, বিএসএফ লাশ নিয়ে গেছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কতজন আহত হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
