নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। প্রকৃত কৃষকদের নাম বাদ পড়ে অনেক অপ্রাসঙ্গিক নাম তালিকাভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাই নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
শনিবার বিকেলে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনতার উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি। তালিকা যাচাইয়ের সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব গ্রহণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “যারা প্রকৃত ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তারাই সহায়তা পাবেন। কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে, তা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। প্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করবে এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও এ কাজে সহযোগিতা করবে।”
তিনি আরও বলেন, নতুন তালিকায় বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যারা বাস্তবিক অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সহায়তা পাওয়ার যৌক্তিকতা রাখেন, কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, বিএনপি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা করা হয়েছিল। তবে সেখানে প্রকৃত কৃষকদের পাশাপাশি অনেক অকৃষকের নামও এসেছে, আবার অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ পড়েছে। এ কারণেই নতুন করে তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলেদের বিষয়ে তিনি বলেন, “জেলেদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকলেও আমি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। বিকল্প উপায়ে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
হাওরে মাছ ধরার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হবে। সরকারিভাবে হাওরে মাছ অবমুক্ত করা হবে, আমিও ব্যক্তিগতভাবে মাছ ছাড়ব। তাই অবৈধভাবে মাছ ধরার চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।”
হাওরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন নয়, হাওরের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ছন্দ, গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম রাসেল রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রদল সভাপতি এস এইচ পিপুল, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
