অবৈধ মাসিক চাঁদা না দেওয়ায় অস্থায়ী রেলওয়ে গেইটম্যানদের চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ তুলে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুলহাস, হেডমেইট উজ্জল ও গেইটম্যান সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে ভুক্তভোগী গেইটম্যান ও স্থানীয় এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করে।
এসময় চাকরিচ্যুত অস্থায়ী গেইটম্যান মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও সম্প্রতি তার কাছ থেকে মাসিক চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আগে তিনি প্রতি মাসে ২ হাজার ২৫০ টাকা দিতেন ।
তৌফিকুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে বলেন, এখন বেতন বেড়েছে, তাই আগের মতো চাঁদা দিলে হবে না। আমি অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে হেডমেইট উজ্জলের মাধ্যমে তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবী করা হয়। ওই টাকা দিলে চাকরি বহাল থাকবে, অন্যথায় চাকরি থাকবে না বলে জানানো হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১১ এপ্রিল কোনো নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দাবী করেন।
তৌফিকুর রহমান বলেন, চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য অনেকবার যোগাযোগ করেছি। স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নরসিংদীতেও গিয়েছি। কিন্তু বারবার টাকা দাবি করা হয়েছে। আমার পক্ষে ২ লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব না।
মানববন্ধনে তৌফিকুর রহমানের স্ত্রী জেরিন বলেন, বেতন হওয়ার পরপরই সাদেকুর রহমান নামে এক গেইটম্যান চাঁদার টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে চাকরি থাকবে না বলে হুমকি দেওয়া হতো। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, সারা দেশে অস্থায়ী চাকরিজীবীরা যেন নিরাপদে ও শান্তিতে চাকরি করতে পারেন, সেটাই আমাদের দাবী।
এতে ভোক্তভোগীসহ এলাকার শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
