কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তাদের কষ্টে ফলানো ফসল হারানোর বেদনা অনেক। তিনি বলেন, বিএনপির সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। দেশের ৭৫ ভাগ মানুষ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। এই সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা। কৃষকদের উন্নয়নে সরকার বহুমাতৃক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “ধান ফলাতে কৃষকদের অনেক কষ্ট করতে হয়। আমি নিজেও একজন কৃষক। আমার ধান এভাবে পানিতে পচে গেলে আমিও সেই কষ্ট বুঝতে পারতাম।
এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন ও তাদের কষ্টের কথা শোনেন। তিনি অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তার আওতায় আনতে নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
হাওর পরিদর্শন শেষে বিকেলে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে মন্ত্রী নাসিরনগর হাওরে অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রান সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
কার্যক্রমের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০ জন কৃষকের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই হাজার কৃষকের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে ধানি জমি তলিয়ে যেতে থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান শাকিলের সঞ্চালনায় এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম.এ. হান্নান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম, উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, কৃষি বিভাগের প্রতিনিধিসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঢলের পানিতে ৩০৫ হেক্টর ধানি জমি তলিয়ে যায়। যার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকরা বলছেন ক্ষতির পরিমান আরো বেশি।
