কিস্তিতে কেনা টেলিভিশনের মূল্য পরিশোধ চলাকালেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় রাশেদ মিয়ার। পরিবারের জন্য নেমে আসে অনিশ্চয়তা। তবে এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া কিস্তির বোঝা আর পরিবারের ওপর রাখেনি ওয়ালটন প্লাজা। কিস্তি সুরক্ষা নীতির আওতায় পাওনা টাকা মওকুফের পাশাপাশি রাশেদ মিয়ার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী ওয়ালটন প্লাজার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশেদ মিয়ার স্ত্রী রমিছা আক্তারের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

ওয়ালটন প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই নালিতাবাড়ী শাখা থেকে কিস্তিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন রাশেদ মিয়া। এ সময় স্ত্রী রমিছা আক্তারকে নমিনি করেন তিনি। পরে গত ৩ অক্টোবর রাশেদ মিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর ওয়ালটনের ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’র আওতায় তাঁর পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে টেলিভিশনটির বকেয়া কিস্তিও মওকুফ করে দেওয়া হয়।

নালিতাবাড়ী ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওয়ালটন প্লাজার সিডিও মীর গোলাম ফারুক, আরএসএম আজমাইন বিন নজরুল ও আরসিএম কে এম আরিফুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা রমিছা আক্তারের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন।

ওয়ালটন প্লাজার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিস্তিতে পণ্য কেনা গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ চালু করা হয়েছে। এ নীতির আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনা গ্রাহকদের কিস্তি সুরক্ষা কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, কিস্তি চলমান থাকা অবস্থায় কোনো গ্রাহকের মৃত্যু হলে পণ্যমূল্যের ভিত্তিতে তাঁর পরিবারকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর গ্রাহকের পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যের অনাদায়ী কিস্তির অর্থ সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট সহায়তার টাকা গ্রাহক বা তাঁর পরিবারকে দেওয়া হয়।

ওয়ালটনের এ সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রমিছা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা ওয়ালটন পরিবারের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।