বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে সহাবস্থান নিশ্চিত করা, হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাড়ানো এবং বন্যহাতিকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত নিরসনে কাজ করা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং বন্যহাতি সংরক্ষণে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকেরা সভায় অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মধুটিলা ইকোপার্কের উন্নয়ন এবং শেরপুর জেলার পর্যটন খাতের বিকাশেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যেতে পারে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারি, জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম জহুরুল ইসলাম এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম।

সভা শেষে বন্যহাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে হাতি তাড়ানোর কাজে ব্যবহারের জন্য এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যদের হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার পথে মন্ত্রী বুরুঙ্গা পাহাড়ের ওসমানের খোল এলাকায় বন্যহাতির চলাচলের পথ এবং হাতির ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক জলাধার পরিদর্শন করেন। এ সময় হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।