ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩ পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক (উপসচিব) শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গ্রাম আদালতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন উপজেলা গ্রাম আদালত কো-অর্ডিনেটর মনোরঞ্জন সূত্রধর।

সভায় জানানো হয়, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আর্থিক মূল্যমানের বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই।

সভায় আরও জানানো হয়, একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের মনোনীত দুজন করে মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের অন্য সদস্য দায়িত্ব পালন করতে পারেন। নারী সংশ্লিষ্ট মামলায় প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের বিধান রয়েছে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ও তুলনামূলক কম খরচে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদন ফি ছাড়া গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে অতিরিক্ত খরচ নেই বলেও সভায় জানানো হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে মামলার চাপ কমাতেও গ্রাম আদালত ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি উপজেলার ১০১টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৭২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব মামলায় ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করতে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে।

তিনি গ্রাম ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় গ্রাম আদালতের সুবিধা তুলে ধরে বিলবোর্ড স্থাপন এবং বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. মীরাজুল ইসলাম, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।