নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, পরে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মোহারকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোহারকয়া (ভাঙ্গাপাড়া) এলাকার সাজদার প্রামাণিকের ছেলে মো. কাউসার আলী (২০), মো. মিজানুর (বিশু)-এর ছেলে মো. সোহাগ আলী (২৩) এবং মো. টুটুল প্রামাণিকের ছেলে মো. ইমন আলী (১৯)।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি প্রথমে নারী কণ্ঠে প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আস্থা অর্জন করত। এরপর ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মতো যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চক্রের সদস্যরা প্রবাসী সেজে তাঁদের স্ত্রী, ভাই বা পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোন করত। এ সময় প্রবাসীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা তা নবায়ন করতে হবে—এমন কথা বলে অর্থ দাবি করা হতো।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে কোনো কোনো পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি ও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

লালপুর থানা পুলিশ আরও জানায়, মোহারকয়া ভাঙ্গাপাড়া এলাকায় কাউসার আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কতজন প্রবাসী বা তাঁদের পরিবারের সদস্য প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত—এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।