মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ কেজি ১৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে সাতজনকে মাদক ব্যবসায়ী, দুজনকে মাদক বহনকারী এবং একজনকে মাদকসেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানাভিত্তিক অভিযানে হাতিয়া থানায় ২২০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে মাদক ব্যবসায়ী এবং দুজনকে মাদক বহনকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৮০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেনবাগ থানায় ১০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে মাদক ব্যবসায়ী এবং একজনকে মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া সেনবাগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক মাদকসেবীকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোনাইমুড়ী থানায় পাঁচ পিস ইয়াবা ও ১০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে এবং চরজব্বর থানায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, পরিবহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীতে এর আগেও জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গত ৩ সেপ্টেম্বরের অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৪৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল জেলা পুলিশ।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।