সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যাংকার পরিচয়ে প্রতারণা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, চান্দগাঁও, সোনাইমুড়ী ও দাউদকান্দিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কক্সবাজারের চকরিয়ার মো. তালিপ (২০), পেকুয়ার জয়নাল (৩৪), রামুর মোহাম্মদ কাউছার (২৭), কক্সবাজার সদরের মো. মিরুয়ান (২৫), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আবুল কালাম (৬৭), টেকনাফের নুরুল আবছার (৩৩) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইসমাইল মীর (২৪)।

ডিবি জানায়, সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পরিচয়ে ত্রাণের অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে তালিপ ও জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কাউছার ও মিরুয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবুল কালাম, নুরুল আবছার ও ইসমাইল মীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি প্রতারণা মামলা রয়েছে।

মেহেরপুর ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সানা বলেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দেশের চার জেলায় টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ ফোন করে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা গোপন পিন চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহজনক ফোনকল, মেসেজ বা অনলাইন প্রস্তাব পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।