চুয়াডাঙ্গা সীমান্তসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১১ দশমিক ২৮ কেজি স্বর্ণসহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে বিএসএফের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএসএফের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৯টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষায় এসব স্বর্ণ ২৪ ক্যারেটের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১১ হাজার ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ১১ দশমিক ২৮ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩০২ ভারতীয় রুপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে হালদারপাড়া বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) কাছে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর বিএসএফ সদস্যরা অভিযান চালান। পরে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে স্বর্ণের বড় চালানটি জব্দ করা হয়।
বিএসএফের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে স্বর্ণের চালানটি ভারতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আটকের পর উদ্ধার করা স্বর্ণ ও বাংলাদেশি নাগরিককে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তসংলগ্ন কামারপাড়া গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আটক ব্যক্তি ওই গ্রামের মো. খবির। তাদের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার সময় খবিরের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন। সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর খবির বিএসএফের হাতে আটক হন এবং অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
তবে খবিরের পরিচয়, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সীমান্তে যাওয়ার বিষয়টি এবং তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানে সম্পৃক্ততার অভিযোগ কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এসব দাবি এখনো স্থানীয় পর্যায়ের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
খবিরের স্ত্রী শামসুন্নাহার জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং তার স্বামী কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না। তার দাবি, খবির দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং স্বর্ণ চোরাচালান বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি আরও জানান, পরে বিজিবির সদস্যরা বাড়িতে এসে তার স্বামী সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়ে আটক হওয়ার কথা জানান। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বর্ণসহ আটকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ওপারে কামারপাড়া গ্রামের একজন বিএসএফের কাছে স্বর্ণসহ আটক হয়েছে—এ