নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর এলাকায় সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, হয়রানি ও মামলা-মোকদ্দমার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মরহুম জি আর রশিদ আহমেদের পরিবার।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের মরহুম শহীদ উদ্দিন এস্কেন্দার কচি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম জি আর রশিদ আহমেদের ছেলে মো. আসিফ আরিফ আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নাসির উদ্দিন তরুণ নামে এক ব্যক্তি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের পরিবার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন। তাঁর দাবি, মানবিক ও পারিবারিক বিবেচনায় জি আর রশিদ আহমেদের পরিবার তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নাসির উদ্দিনের পরিবারকে বসবাসের সুযোগ দিয়েছিল। তবে ২০০৮ সালে জি আর রশিদ আহমেদের মৃত্যুর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও হয়রানি শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, একটি জাল দলিলের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ সম্পত্তি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে দলিল বাতিলের মামলা এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়। বিভিন্ন আপিল ও প্রশাসনিক শুনানিতে তাঁদের পরিবার পক্ষে সিদ্ধান্ত পেয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে হয়রানি ও মামলা বন্ধ করে তাঁদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

এ সময় চৌমুহনীর ব্যবসায়ী আবুল কাসেমও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জি আর রশিদ ও জি আর তোফায়েল আহমেদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বৈধভাবে কিছু সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করার পর নাসির উদ্দিন তরুণ ও তাঁর লোকজন তাঁকে বিভিন্নভাবে বাধা ও হয়রানি করে আসছেন।

আবুল কাসেম অভিযোগ করেন, গত ২৫ এপ্রিল নাসির উদ্দিন তরুণ ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগী আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২৭ আগস্ট একদল লোক নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং ঘরের বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নাসির উদ্দিন তরুণ যে ১১৩ শতক জমির মালিকানা দাবি করছেন, প্রকৃতপক্ষে ওই জমির মালিকানা জি আর রশিদ ও জি আর তোফায়েল আহমেদের পরিবারের। আবুল কাসেম বলেন, জমির মালিকানার বৈধ কাগজপত্র থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোয়াখালী প্রেসক্লাব অথবা নোয়াখালী বার অ্যাসোসিয়েশনে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে তা উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাঁদের পরিবার ভবিষ্যতে হামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মরহুম জি আর রশিদ আহমেদের স্ত্রী জহুরা আহমেদ, মেয়ে শারমিন হোসেন, ছেলে মো. আসিফ আরিফ আহমেদ, ব্যবসায়ী আবুল কাসেম, মামুনসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নাসির উদ্দিন তরুণের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে চলমান মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালত ও কর্তৃপক্ষের বিষয়।