কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ভুক্তভোগীরা। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ না করে কৃষক কার্ডবিহীন ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া, নিম্নমানের ধান সংগ্রহ এবং খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান না নিয়ে বাইপাস করে রাইস মিলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজারহাট প্রেসক্লাব চত্বরে ‘দুর্নীতি বন্ধ হোক, ন্যায্যতার প্রতিশ্রুতি হোক’ স্লোগানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলেও অনিয়মের কারণে অনেক কৃষক সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন।

কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আঃ কুদ্দুস বলেন, “রাজারহাট খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি মোঃ হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম ও কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

কৃষক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, “ধান সংগ্রহে অনিয়মের বিষয়ে আমরা একাধিকবার রাজারহাট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মাসুদা বেগমের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি জেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি কিছু জানেন না, সবকিছু কর্তৃপক্ষ জানে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

ভুক্তভোগী কৃষক মনি মিয়া বলেন, “আমরা প্রকৃত কৃষক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি নিয়মে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। অথচ যাদের কৃষক কার্ড নেই, তারাও সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।”

আরেক ভুক্তভোগী কৃষক সোনা মিয়া বলেন, “সরকার কৃষকদের সুবিধার জন্য ধান সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছে। কিন্তু অনেক প্রকৃত কৃষক সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান নেওয়ার কথা থাকলেও বাইপাস করে রাইস মিলে ধান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

মানববন্ধনে কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নয়ন আলী, রেজাউল করিম, পলাশ মোল্লা, মনি মিয়া ও সোনা মিয়া।

এছাড়া কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন আঃ কুদ্দুস, শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী ও আসাদুর রহমান।

বক্তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এসময় সাধারণ কৃষক, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।