কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং ২০১১ সালের ঐতিহাসিক নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সৈকতের বালিয়াড়ির বুক চিরে সড়ক নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভুঞার দ্বৈত বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনাদান্তে এ সংবেদনশীল আদেশ প্রদান করেন।
পরিবেশিক ভারসাম্য বজায় রেখে উপকূলীয় কূল সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের এই দৃঢ় হস্তক্ষেপ এক তাৎপর্যপূর্ণ আইনি নজির স্থাপন করল।

আইনি লড়াইয়ে রিটকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং বেলা-র পক্ষে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী জোরালো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ঐতিহাসিক রায়ে কক্সবাজার সৈকতের ভৌত অবকাঠামোগত চরিত্র সুরক্ষা এবং বালিয়াড়ি সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। অতীতে দু’দফায় প্রশাসনিক অভিযানে উচ্ছেদ সম্পন্ন হলেও, সম্প্রতি কক্সবাজার পৌরসভা পূর্বের রায় তোয়াক্কা না করে বালিয়াড়ির ভেতরেই পাকা সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে। গণমাধ্যমে প্রাক-প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টের এ খবর প্রকাশ্যে এলে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) এবং ‘বেলা’ পৃথকভাবে আদালত অবমাননা ও স্থগিতাদেশের আরজি জানায়।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালকসহ চার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রশাসনিক এখতিয়ার ও জবাবদিহিতা এখন উচ্চ আদালতের কড়া নজরদারিতে। পরিবেশিক ঝুঁকি এড়াতে আদালতের এই চূড়ান্ত হস্তক্ষেপ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।