নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৩৮১ জন। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দেশটির কয়েকটি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান।
নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে তিব্বতের দিকে ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেকে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের ভিত্তিতে ৪৮৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে চিতওয়ানে—১৮৬টি। এরপর নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্ব) থেকে ১১২টি, গোর্খায় ৪৪টি, ধাদিংয়ে ৪০টি, নুয়াকোটে ৩৭টি, তানাহুনে ২৯টি, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিম) থেকে ২৮টি এবং রসুয়া থেকে ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ ২,৩৮১ জন
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখনো ২ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তারা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে নেপালে ভ্রমণে আসা ১২৭ জন প্রবাসী নেপালি এবং ১ হাজার ৭৩৭ জন স্থানীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
নতুন করে প্লাবনের শঙ্কা
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে ভোতে কোশি নদীর পানি আবার বাড়তে থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিব্বতে ভূমিধসের কারণে তৈরি হ্রদের পানি উপচে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন প্লাবনের ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
