নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের এক নারী অফিস সহায়ককে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নারীর কাছ থেকে বাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে মোট ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পর্যন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

জানা গেছে, ২০১০ সালে একই নিয়োগের মাধ্যমে হাফিজুর রহমান রুবেল ও অভিযোগকারী নারী মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে যোগ দেন। ওই নারীর স্বামী প্রায় তিন বছর আগে মারা যান। অন্যদিকে রুবেলের স্ত্রী কাজের সন্ধানে বিদেশে রয়েছেন। এ অবস্থায় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।

ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুবেল তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। তাঁর দাবি, গত ১০ আগস্ট কলেজ ছুটির পর একটি কক্ষে নিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় কয়েকজন বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি তোলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী আরও বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেল কেনার জন্য রুবেল তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। পরে বাড়ি করার কথা বলে মদন সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে আরও আট লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। সব মিলিয়ে রুবেলকে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ওই নারী। একটি ঋণের জামিনদার হিসেবেও রুবেলের নাম রয়েছে বলে তিনি জানান।

ওই নারী বলেন, রুবেলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। তাঁর দাবি, “আমি চাই, সে আমাকে বিয়ে করুক।”

অভিযোগ অস্বীকার রুবেলের

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল। তিনি বলেন, ওই নারীর অভিযোগ মিথ্যা। তাঁর ভাষ্য, “তার মাথায় সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যারের সামনে কয়েকজনকে নিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ কেন?”

তদন্ত কমিটির বক্তব্য

কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুল হক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক জহিরুল হক আসলাম।

তদন্ত কমিটির প্রধান আতিকুর রহমান পলাশ বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ দিন আগে অধ্যক্ষ তাঁকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে অধ্যক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, অভিযোগের বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহে আছেন জানিয়ে রোববার কলেজে এসে সরাসরি কথা বলার অনুরোধ করেন।

এদিকে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, নারী অফিস সহায়কের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।