নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক যুবককে পথরোধ করে জোরপূর্বক অপহরণ, পরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শামীম আহমেদ ওরফে (শুটার শামীম) সহ আটজনের নাম এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী মো. ফারুক আহমেদ (৪৮) এর অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, তার সহোদর ভাই শফিকুল ইসলাম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জেরে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ বাজার থেকে নিজ বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক আটক করে মুখে কাপড় চেপে ধরে একটি মোটরসাইকেলে তুলে পাশ্ববর্তী ধোবাউড়া উপজেলায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা শফিকুলের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন ফারুক আহমেদ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীকে অপহরণের সময়, শামীমের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা শফিকুলকে ভয় দেখায় এবং ঘটনার বিষয়ে কারো কাছে মুখ না খোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। পরবর্তীতে শফিকুল ইসলামকে ধোবাউড়া থানাধীন রনসিংহপুর বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে অভিযুক্তরা শফিকুলকে ফেলে পালিয়ে যায় পরবর্তিতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে যায়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, শামীম আহমেদ ওরফে শুটার শামীম (৩৬), খোকন মিয়া (৩০), সোহেল ওরফে চাকু সোহেল (৩৫), আবু ইমরান (৪০), মামুন মিয়া (৩০), জোনায়েদ মিয়া (৩২), রবিন মিয়া (৩৭) ও সিদ্দিক মিয়া (৩০)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ।

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধমূলক কর্মকাÐের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবী জানানো হয়। এদিকে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্য রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর হুমকি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রæত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। সঠিক তদন্ত, সত্যতা ও নিষ্ঠার সাথে তদন্ত করলে এ ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত তা বেরিয়ে আসবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহরনের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ফোর্স পাঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া ছেলেকে উদ্ধার করেছি। মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও কিশোরগ্যাং বিষয়ে কোন আপোষ নয়। শফিকুলের ভাই বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় মামলা দিয়েছে, এ বিষয়ে আইনী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক, জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে রোধে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।