অর্থের অভাবে চীনে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার স্বপ্ন যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন নাটোরের বাগাতিপাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানমের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া ৫ লাখ টাকার অনুদান তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানের অর্থ গ্রহণ করেন ফাতেমা। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে একই তথ্য পাওয়া গেছে।
ফাতেমা বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খানের মেয়ে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে তিনি চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার প্রাথমিক খরচ জোগাড় করতে না পারায় তাঁর ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুলের নজরে আসে। এরপর তাঁর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ফাতেমার জন্য ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী পুতুল ব্যক্তিগতভাবে ফাতেমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেছিলেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফাতেমার পরিবার জানিয়েছে, নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান হিসেবে মেয়ের বিদেশে মেডিকেল পড়ার খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সরকারি সহায়তা পাওয়ায় এখন তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে।
ফাতেমা বলেন, অর্থের অভাবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সহায়তা পাওয়ায় তিনি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হলে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেধা ও সুযোগের গল্প
ফাতেমার ঘটনা শুধু একজন শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়ার সুযোগ পাওয়ার গল্প নয়; বরং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার গুরুত্বও সামনে এনেছে। তাঁর জন্য দেওয়া সরকারি অনুদান ভর্তি-সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সংকট কাটাতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
