চুয়াডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা গ্রামে একটি চারতলা ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে দুই যুবককে আটকে রেখে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।
জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। দিনব্যাপী অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াচুব গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন জুনায়েদকে (২৩) অনলাইনে জুয়া খেলার সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিকাটার ওই ভবনে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের সেখানে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম পাওয়া গেছে ও আটক করেছে তারা হলো, হাতিকাটা গ্রামের হাসিবুল এর ছেলে মোঃ রাকিব (২৪) আঃ রহমান এর ছেলে মোঃ আলভী (২৩),
মোঃ মোস্তাফিজুর এর ছেলে বাধন (২৫), আলী হোসেন জোয়ার্দার এর ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (৩০), মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ নাফি (১৮) ও কোটমোড় এলাকার আলী কদর এর ছেলে মোঃ রিফাত (১৯),এবং পলাশপাড়া এলাকার নাজের আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪) তাদের সবার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে ‘আয়নাঘর’-এর আদলে একটি নির্যাতন কক্ষের মতো পরিবেশ তৈরি করে বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে মানুষকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করা হতো।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অনলাইন জুয়ার লেনদেনে ঝামেলা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব থেকে চুয়াডাঙ্গার হাতিকাটায় ডেকে আনা হয় নুর ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৪) ও কাবিল উদ্দিনের ছেলে জুনায়েদকে।
হাতিকাটা গ্রামের প্রবাসী মিজানুর রহমানের বাড়ির বেজমেন্টে তাদেরকে আটকে রেখে চলছিল নির্যাতন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি খেয়াল করে। ফোন দেওয়া হয় ৯৯৯ জরুরী সেবায়। বিকেলে চুয়াডাঙ্গা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ সেখানে পৌঁছে ৯ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে রয়েছে হাতিকাটা গ্রামের রাকিব, আলভী,বাঁধন, ফরহাদ, নাফিসহ আরো দুইজন।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানিয়েছেন, এরা সবাই অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া আইন ২০২৬, ও মাদকদ্রব্য আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রত্যেকের মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।অনলাইন জুয়ার অ্যাপস পাওয়া গেছে। উদ্ধার হয়েছে মাদক।