মেহেরপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানাপ্রাপ্ত সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহান ঝুরকার নেতৃত্বে একটি দল মৃদুলের বাসভবনে গিয়ে এ-সংক্রান্ত নোটিশ জারি করে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যমানের সম্পত্তির তালিকা করা হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে ৩ দশমিক ৩৬৪৫ একর জমি, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে তিনটি সিলিং ফ্যান, একটি ফ্রিজ, দুটি খাট, এক সেট সোফা, দুটি আলমিরা, একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি এসি—যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

যে মামলায় সাজা

মামলার নথি ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃদুলের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচী ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনারের ঘটনায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুরের সংশ্লিষ্ট আদালত মৃদুলকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, জরিমানার ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাদীকে এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল।

প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না হওয়ায় বাদীপক্ষ জরিমানার অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেয়। পরে আদালত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ-সংক্রান্ত আদেশ দেওয়া হয় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিলামের দিকে এগোচ্ছে প্রশাসন

জেলা প্রশাসনের প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক এবং পরবর্তী সময়ে নিলামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিলাম সম্পন্ন হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি; বর্তমানে বিষয়টি ক্রোক ও নিলাম-প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে।