ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মো. ফোরকান মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবককে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুনর্বাসন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ফোরকান মিয়া নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ

ফোরকানের বড় ভাই ইমন মিয়া জানান, তার ভাই মাদকাসক্ত ছিলেন। গত ১৪ আগস্ট ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য তাকে ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়ার কথা ছিল বলে তিনি জানান।

ইমন মিয়ার ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে পরিবারের কাছে ফোন করে জানানো হয়, ফোরকান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে না পেয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গেলে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফ্রিজিং গাড়িতে ফোরকানের মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ফোরকানকে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে করা হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে।

পুনর্বাসন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

‘প্রয়াস’ মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, ফোরকান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ফোরকানকে তারা কেন মারধর করে হত্যা করবেন—এ অভিযোগ সত্য নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক রনি বলেন, ফোরকানকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা

ঘটনাটি ঘিরে পরিবারের অভিযোগ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ—এসব তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পরিবার জানিয়েছে, তারা এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে কি না, তা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।