ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের সেলুন কর্মী আতিকুর রহমানের-(১৯) হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যার সাথে জড়িত তিন আসামীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই হত্যা রহস্য উন্মোচন করে। নিহত আতিকুর রহমান মহেশপুর গ্রামের মোঃ খলিল মিয়ার ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের টিটু মিয়ার ছেলে মোঃ সাগর-(২০), একই এলাকার মোঃ রবিউল্লাহর ছেলে মোঃ সাদ্দাম-(৩৬) ও মোঃ আবুল কালামের ছেলে মোঃ বোরহান-(২২)। বুধবার বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ভিকটিম আতিকুর রহমান ও হত্যা মামলার আসামীরা সবাই একই এলাকার ও পূর্ব পরিচিত। হত্যাকারীরা আতিকুর রহমানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে তার লাশ পুকুরে ডুবিয়ে রাখে।

পিবিআই জানায়, মামলার এজাহারে ভিকটিমের মা তাছলিমা বেগম উল্লেখ করেন যে তাঁর ছেলে ভিকটিম আতিকুর রহমান পেশায় একজন সেলুন কর্মী। আসামীদের সাখে ভিকটিমের পূর্বে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিলো। গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে আসামীরা আতিকুর রহমানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত ১টার পর থেকে তার আতিকুর রহমানের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

১ এপ্রিল সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ মালিকানাধীন পুকুর থেকে আতিকুর রহমানের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা তাছলিমা বেগম ২ এপ্রিল নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ০৫)।

পিবিআই আরো জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পিবিআই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের এসআই মোঃ শাহাদাত হোসেন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে আখাউড়া উপজেলার খড়মপুর মাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ নং এজাহারনামীয় আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে সাগরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘরস্থ পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদ্দাম ও বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে যে, আতিকুর রহমান ও আসামি সাগর পরস্পর পরিচিত ও বন্ধু। ঘটনার রাতে তারা বোরহানের ঘরে জড়ো হয়ে মাদক সেবন করে ও লুডু খেলে। পূর্ব বিরোধের জেরে ভিকটিম আতিকুর রহমানের সাথে আসামি বোরহানের তর্কাতর্কি শুরু হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বোরহান উত্তেজিত হয়ে আতিকুর রহমানের অন্ডকোষে লাথি মারলে আতিকুর রহমান ব্যথায় অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।

পরবর্তীতে আসামি সাদ্দামের নির্দেশে তারা আতিকুর রহমানকে পাশের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সাদ্দাম একটি কালো রঙের ওড়না এনে আতিকুর রহমানের গলায় পেঁচিয়ে ধরে এবং অন্যদের চেপে রাখতে হুকুম দেয়। দুলাল আতিকুর রহমানের দুই পা, ইমন দুই হাত এবং বোরহান বুকের উপর চেপে বসে আতিকুর রহমানের নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় এবং সাদ্দাম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এদিকে হত্যাকান্ড শেষে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ড্রামের ভেতর থেকে বস্তা এনে বস্তাবন্দি করে সাগরের মাথায় তুলে দেয়া হয়। পরবর্তীতে তারা লাশ পুকুরের পানিতে ফেলে গাছের শিকড়ের সাথে বেঁধে রাখে। আতিকুরের একজোড়া জুতো বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে রেখে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে সাদ্দাম।

এ ব্যাপাওে পিবিআই’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, আতিকুর রহমান হত্যা ঘটনায় তিনজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডে নিজেদেও সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বুধবার বিকেলে তাদেরকে বুধবার বিকেলে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী পলাতক আসামীদেরকে গ্রেপ্তারে পিবিআই-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।