সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড ভেঙে পঙ্গুত্ববরণ করা আবুল বাশারের জীবন এখন কাটছে চরম দুঃখ-কষ্টে। নিজের চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিজ নিজ সংসারে ব্যস্ত। ফলে অসহায় ছেলের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতে বৃদ্ধা মাকেই এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বনগাভী গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার কয়েক বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এরপর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পঙ্গুত্বের জীবন কাটাচ্ছেন।

চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে আরও কঠিন হয়ে ওঠে তাদের জীবন। ভাইয়েরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় একমাত্র পঙ্গু সন্তানের দায়িত্ব এসে পড়ে বৃদ্ধা মায়ের ওপর।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মা এখনো সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেন। ভাঙাচোরা পথ পেরিয়ে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য সহযোগিতাতেই কোনোভাবে চলছে মা-ছেলের সংসার। একদিকে সন্তানের অসহায়ত্ব, অন্যদিকে বৃদ্ধা মায়ের অসহায় জীবন—সব মিলিয়ে পরিবারটির দিন কাটছে চরম মানবেতর অবস্থায়।

তবে আবুল বাশার করুণা নিয়ে বেঁচে থাকতে চান না। তিনি চান স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবন। তার স্বপ্ন, ছোট একটি দোকান কিংবা চায়ের দোকান দিয়ে নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করা। এতে অন্তত অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের এবং মায়ের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন তিনি।

আবুল বাশারের এই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা। সামান্য আর্থিক সহায়তা কিংবা একটি ছোট দোকান স্থাপনের ব্যবস্থা করে দিলে বদলে যেতে পারে অসহায় এই মা-ছেলের জীবন।

মানবিক মানুষদের প্রতি আবুল বাশার ও তার পরিবারের আকুল আবেদন—করুণা নয়, তাদের স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচার সুযোগ করে দিন। আপনার সামান্য সহযোগিতা, একটি শেয়ার কিংবা একটি মানবিক উদ্যোগও তাদের জীবনে এনে দিতে পারে নতুন আশার আলো।

সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ: 01757-066071