নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পুড়িয়ে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগটি তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন একটি সরকারি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। সরকারি Facility Registry-তেও প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান মদন, নেত্রকোনা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান জানান, স্টোর কিপার তৌকিক কোনো অনুমতি না নিয়ে হাসপাতালের ওষুধ পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মদনে চুরি ডাকতে স্টোর কিপার গোপনে পুড়িয়ে দিল ওষুধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে শত শত ওষুধের বোতল ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী বের করে সেগুলো ভেঙে ও পুড়িয়ে ফেলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ কাজের আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, যেখানে রোগীদের নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিয়ে সংকট রয়েছে, সেখানে ব্যবহারযোগ্য বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ধ্বংস করা হলে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং অনিয়মের প্রশ্ন উঠতে পারে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তদন্ত কমিটি ওষুধের তালিকা, মেয়াদ, স্টোর রেজিস্টার, ধ্বংসের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তৌকিক ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি স্টোরের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী গোপনে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করতেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কথিত অনিয়ম আড়াল করার উদ্দেশ্যে কয়েক দিন আগে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওষুধের বোতল ভাঙা এবং অন্যান্য সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত আছে বলে সংবাদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্টোর কিপার তৌকিকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও জনবলসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির স্টোর কিপার পদ শূন্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

বর্তমানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে—ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংসের ঘটনায় নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে এর জন্য কারা দায়ী। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।